বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২২

১৩৭ শিল্পীর ‘শাটিকাপ’

অনলাইন ডেস্ক
|  ১৪ জানুয়ারি ২০২২, ০২:৫৮

 

আহসাবুল ইয়ামিন, ওমর মাসুম, অমিত রুদ্র, নাজমুস সাকিব, শাহ্ আসিফ আহমেদ, ওয়াসিকুল ইসলাম, সাজিয়া খানম, গালিব সরদার...। তাঁদের চেনা যায়? না, অপরিচিত তাঁরা। চেনার দরকারও নেই। তাঁদের চিনিয়ে দেবে অভিনয়।


একজন–দুজন নয়, ১৩৭ জন অভিনয়শিল্পী এক সিরিজে! তাঁদের শ্রম আর মেধা ঢেলে দিয়ে তাঁরা একটি অঞ্চলের গল্প তুলে এনেছেন। সিরিজের নাম ‘শাটিকাপ’। আনছে চরকি। কেন এই কথা? তাঁর কারণ আছে বৈকি। সাধারণত নাটক, সিনেমা ও সিরিজের গল্প ঘুরেফিরে এই শহরের মধ্যেই আটকে থাকে। ঢাকা ছাড়া যে বাংলাদেশকে দেখানো যায়। ঢাকার বাইরেও আছে গল্প, আর সেই গল্পে অভিনয় করার মতো অভিনেতাও সেখানে আছেন—তারই এক সমন্বয় ‘শাটিকাপ’।

 

দুই দেশের সীমান্ত বরাবরই এক ‘অদ্ভুত’ এলাকা। সেখানে এমন সব ঘটনা ঘটে, যার অনেক কিছু লোকচক্ষুর আড়ালে থাকে। ঘটে মাদক পাচার, চোরাচালানির মতো কাজ। রাজশাহীর একটি এলাকার কিশোর গ্যাং আর প্রভাবশালী মাদক কারবারিদের নিয়ে এই সিরিজের গল্প। কাহিনি যেহেতু একটি অঞ্চলের, তাই অভিনেতাও নেওয়া হলো সব সেখানকার। ভাষা থেকে শুরু করে, জীবনযাপন—সবই উঠে এল সেই এলাকাকে ঘিরেই। এমনকি সিরিজের শুটিংও করা হয়েছে ওই এলাকাতেই। তাই সিরিজটিকে বলা হচ্ছে খাঁটি গল্পের শতভাগ লোকাল সিরিজ।

 

এই সিরিজ বানিয়েছেন মোহাম্মদ তাওকীর ইসলাম। তিনি ভারতের এশিয়ান স্কুল অব মিডিয়া স্টাডিজ থেকে সিনেমায় পড়ালেখা করেছেন। সবার কাছে পরিচিত শাইক নামে। কী পরিকল্পনা ছিল তাঁর? ‘আমরা যখন “শাটিকাপ” বানাচ্ছিলাম, তখন আমরা জানতাম না এটা কোথায় যাবে, কীভাবে মানুষ দেখবে। আনন্দ পাচ্ছিলাম তাই কাজটা করে যাচ্ছিলাম। ফাইনালি আমরা কাজটা শেষে করেছি আর সেটা চরকিতে আসছে। এতে আমরা যে কী আনন্দিত, সম্মানিত বোধ করছি তা বলে বোঝানো সম্ভব নয়।’ বললেন তাওকীর।

 

চরকি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই প্রথম তারা কোনো সিরিজের পোস্টার প্রকাশের আগে তার ট্রেলার প্রকাশ করেছে। শুধু তা–ই নয়, সিরিজের প্রিমিয়ার শোরও একটি আয়োজন করা হয়েছে। সেটিও করা হয়েছে রাজশাহীতেই। নির্মাতা বলেন, ‘“শাটিকাপ”-এ যাঁরা কাজ করেছেন, তাঁদের সবারই আঁতুড়ঘর হলো রাজশাহী। আর এখানেই প্রথমে “শাটিকাপ” দেখানো হবে। আমাদের মনে হচ্ছে, আকাশে-বাতাসে আনন্দ। বিশেষ করে, আমার জীবনের অন্যতম একটি স্মরণীয় দিন এটি।’


১৩৭জন অভিনয়শিল্পীর একজন ওমর মাসুম। শাটিকাপ–এ তাঁকে দেখা যাবে বাবু চরিত্রে। কী অভিজ্ঞতা হলো তাঁর? মাসুম বলেন, ‘আমরা রাজশাহী শহরে দুই লটে (পর্বে) ৬২ দিন শুটিং করেছি। শহরের পঞ্চবটীতে আমরা ১০–১২ দিন রাত ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত শুটিং করেছি।’ সবাই যেন শাটিকাপ দেখে, সেই প্রত্যাশাই এই তরুণ অভিনেতার।

 

একটি খাঁটি থ্রিলার গল্প। তাঁর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে টগবগে একঝাঁক তরুণ। তাঁদের উৎসাহ, সম্মান আর অনুপ্রেরণা দিতে পাশে দাঁড়িয়েছে চরকি। স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি বলেন, ‘রাজশাহীর এই ট্যালেন্টেড তরুণেরা যে এত সুন্দর একটা কাজ করে ফেলেছেন, সেটা না দেখলে মিস করবেন দর্শক। চরকি শুধু চেষ্টা করেছে এই তরুণদের একটা প্ল্যাটফর্ম দেওয়ার। আর রাজশাহীতে প্রিমিয়ার করার ব্যাপারে আমরা প্রথম থেকেই উৎসাহিত ছিলাম। সবার সহযোগিতায় সেটা সম্ভব হচ্ছে। আপনারা শাটিকাপ দেখুন। চরকিতে থাকুন।’


‘শাটিকাপ’–এর প্রথম মৌসুমে আছে আটটি পর্ব। চরকির বছরের প্রথম অরিজিনাল হিসেবে মুক্তি পাচ্ছে আজ রাত আটটায়। তবে আর দেরি কেন? আপনার অপেক্ষায় ১৩৭ অভিনয়শিল্পীর খাঁটি থ্রিলার গল্প ‘শাটিকাপ’।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত