শনিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২২

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক

ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বীর মরদেহ দেশে আসবে কাল

অনলাইন ডেস্ক
|  ২৩ জুলাই ২০২২, ২২:৪৫

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ফজলে রাব্বী মিয়া যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। ক্যান্সারে আক্রান্ত ডেপুটি স্পিকার নিউইয়র্কে দীর্ঘ ৯ মাস ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। সোমবার (২৪ জুলাই) তার মরদেহ দেশে আনা হবে।

শুক্রবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এসময় হাসপাতালে তার বড় মেয়ে ফাহিমা রাব্বী রিটা এবং একান্ত সচিব তৌফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। তিনি তিন মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার পরিবার দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে।

নিউইয়র্ক থেকে এয়ার এমিরেটসের বিমানে আগামীকাল সোমবার  সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার মরদেহ ঢাকায় আনা হবে। এর আগে রোববার স্থানীয় সময় বাদ জোহর নিউইয়র্কের জ্যামাইকার মুসলিম সেন্টারে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

শনিবার (২৩ জুলাই) ডেপুটি স্পিকারের জনসংযোগ কর্মকর্তা স্বপন কুমার বিশ্বাস গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মরদেহ বাংলাদেশে আনার পর প্রথম জানাজা হওয়ার কথা জাতীয় সংসদে। কিন্তু কখন এই জানাজা অনুষ্ঠিত হবে তা এখনও জানা যায়নি। এরপর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে সুপ্রিম কোর্টে। সুপ্রিম কোর্ট থেকে মরদেহ নেওয়া হবে গাইবান্ধায়। সেখানকার ভরতখালী স্কুল মাঠে তার জানাজা শেষে পারিবারিক করবস্থানে দাফন করা হবে।

ডেপুটি স্পিকারের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তারা মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

মো. ফজলে রাব্বী মিয়া ১৯৮৬ সালের তৃতীয়, ১৯৮৮ সালের চতুর্থ, ১৯৯১ সালের পঞ্চম ও ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৫ আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগদিয়ে ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে পরাজিত হন। ২০০৮ সালের নবম, ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৫ আসন থেকে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। দশম সংসদ থেকে তিনি ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ফজলে রাব্বী মিয়া ১৯৪৬ সালের ১৫ এপ্রিল গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার গটিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ফয়জার রহমান এবং মাতার নাম হামিদুন নেছা। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি ১১নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন। এছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বৈশ্বিক জনমত গড়ে তুলতেও তিনি কাজ করেছেন।

এদিকে ফজলে রাব্বী মিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। শোকবার্তায় তিনি ফজলে রাব্বী মিয়ার সংসদ পরিচালনায় তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে বলেন, দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা ও বিকাশে ফজলে রাব্বীর অবদান জাতি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।

পৃথক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই ফজলে রাব্বী মিয়া আইয়ুববিরোধী আন্দোলন এবং ১৯৬২-এর শিক্ষা কমিশনবিরোধী আন্দোলনে জড়িত ছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ১১ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেছিলেন। সংসদীয় গণতন্ত্রে অসামান্য ভূমিকার জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

ফজলে রাব্বী মিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। এক শোক বাণীতে প্রধান বিচারপতি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে আইনজীবী মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার অসামান্য অবদান রয়েছে। তিনি ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। জাতি চিরকাল তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ রাখবে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক শোকবার্তায় ফজলে রাব্বী মিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এছাড়া শোক জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কৃষি মন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, তথ্য মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, খাদ্য মন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, ভূমি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এলজিআরডি মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সী, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, চিফ হুইপ নুর ই আলম চৌধুরী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান, নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনসহ মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা। এছাড়া পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার) এবং  পার্লামেন্ট জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন (বিপিজেএ) আহ্বায়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র ও সদস্য সচিব কাজী সোহাগ শোক প্রকাশ করেছেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত